Friday, September 27, 2024

স্বপ্ন রেকর্ড করার যন্ত্র বানালেন বিজ্ঞানীরা

 

স্বপ্ন রেকর্ড করার যন্ত্র বানালেন বিজ্ঞানীরা



স্বপ্ন দেখতে কে না ভালোবাসেন! তবে জেগে নয় ঘুমের মধ্যে দেখা স্বপ্নগুলো হয় বেশ রোমাঞ্চকর। অনেকে স্বপ্ন দেখেন ঠিকই, কিন্তু ঘুম ভাঙার পর তা আর মনে করতে পারেন। তবে আপনার জন্য আছে সুখবর, অর্থাৎ এখন থেকে স্বপ্ন রেকর্ড করার সুযোগ পাবেন। যা আপনি ভুলে গেলেও পরে ঠিকই রেকর্ড হওয়া স্বপ্ন থেকে বুঝে নিতে পারবেন ঠিক স্বপ্নে কী দেখেছিলেন!

সম্প্রতি জাপানের একদল বিজ্ঞানী স্বপ্ন রেকর্ড করার একটি ডিভাইস তৈরি করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। তাদের তৈরি বিপ্লবী এই যন্ত্র আপনার স্বপ্ন রেকর্ড ও প্লেব্যাক করতে পারে। হ্যাঁ, আপনি যে ঠিক পড়েছেন! এই অবিশ্বাস্য প্রযুক্তিটি মস্তিষ্কের ইমেজিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে আপনাকে ব্যতিক্রমী উপায়ে স্বপ্নের রহস্যময় রাজ্যে অনুসন্ধানে সাহায্য করবে।

এই ডিভাইসটি কিভাবে কাজ করে সে বিষয়ে কিয়োটোর এটিআর কম্পিউটেশনাল নিউরোসায়েন্স ল্যাবরেটরিজের বিজ্ঞানীরা একটি গবেষণা পরিচালনা করেছেন। যেখানে তারা ঘুমের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকাকালীন স্বেচ্ছাসেবকদের জ্ঞানীয় কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করেছেন।



দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীরা যখন আরইএম (র্যাপিড আই মুভমেন্ট) ঘুমে বা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন, তখন তারা ঘুমের মধ্যেই জেগে ওঠেন ও তাদের স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেন যা তারা দেখেছিলেন। প্রক্রিয়াটি বারবার পরিচালিত হয়েছিল। নির্দিষ্ট মস্তিষ্কের নিদর্শনগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত ছবিগুলোর একটি বিস্তৃত ডাটাবেস এভাবে তৈরি করা হয়।

এটিআর কম্পিউটেশনাল নিউরোসায়েন্স ল্যাবরেটরিজ থেকে প্রফেসর ইউকিয়াসু কামিতানি উল্লেখ করেছেন, ‘আমরা ঘুমের সময় মস্তিষ্কের কার্যকলাপ থেকে স্বপ্নের বিষয়বস্তু প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছি। যা বিষয়ের মৌখিক প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।’

গবেষণার অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের স্ক্যানগুলো যত্ন সহকারে বিশ্লেষণ করে, বিজ্ঞানীরা ৬০ শতাংশ নির্ভুলতার সঙ্গে স্বপ্নের বিষয়বস্তুগুলো ভবিষ্যদ্বাণী করতে সফল হয়েছেন।

এই আশ্চর্যজনক প্রযুক্তি শুধু সাধারণ মানুষের কাছেই আকর্ষণীয় নয়, এর তাত্পর্য স্নায়ুবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও দারুণ কাজে আসবে বলে জানান বিজ্ঞানীরা। স্বপ্নগুলো ক্যাপচার করা ও তা পর্যবেক্ষণ করে স্নায়ুবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী ও গবেষকরা মানব মস্তিষ্কের জটিল কাজ, চেতনার প্রকৃতি এবং স্বপ্ন দেখার গুরুত্ব সম্পর্কেও আরও জানতে পারবেন।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্ঞানীয় স্নায়ুবিজ্ঞানী ড. মার্ক স্টোকসের মতে, ‘এটি সত্যিই একটি অভিনব গবেষণা। যা মানব মস্তিষ্ক সম্পর্কে আরও বেশি ধারণা দেবে ও ভবিষ্যতে এ বিষয়ক নতুন গবেষণার ক্ষেত্রেও কাজে লাগবে স্বপ্ন রেকর্ড করার ডিভাইসটি।’

ডেঙ্গু রোগীকে খাওয়াতে পারেন যেসব খাবার

 

ডেঙ্গু রোগীকে খাওয়াতে পারেন যেসব খাবার



ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। এ সময় সুস্থ থাকাটা চ্যালেঞ্জের বিষয়। কারণ ডেঙ্গুতে শরীরের প্লাটিলেট কমে যেতে শুরু করে। এছাড়া শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা বাড়তে পারে। তাই ডেঙ্গু হলে পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে শরীরে পুষ্টি গ্রহণ আরও বাড়াতে হবে।

পুষ্টিবিদদের মতে, ডেঙ্গু হলে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। জ্বর হলে অনেকেই খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেন। এর থেকে হতে পারে পানিশূন্যতা। পাশাপাশি কমে যেতে পারে প্লাটিলেট সংখ্যা। তাই বাড়িতে কারও ডেঙ্গু জ্বর হলে অবশ্যই কয়েকটি খাবার খাওয়ানো জরুরি।

কী কী খাওয়াবেন ডেঙ্গু রোগীকে?

ডাবের পানি

শারীরিক সুস্থতায় ডাবের পানি অনেক উপকারী। ডেঙ্গু জ্বর হলে শরীরে তরল পদার্থের শূন্যতা থেকে সৃষ্টি হয় ডিহাইড্রেশন। তাই এ সময় বেশি করে ডাবের পানি পান করুন। এতে থাকে ইলেক্ট্রোলাইটসের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি।

ডালিম

ডালিমে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল। এ সময় ডালিম খেলে বাড়বে প্লাটিলেটের সংখ্যা। এই উপকারী ফলটি খেলে ক্লান্তি ও অবসাদ অনুভূতিও দূর হবে।

কমলা

কমলা বা মালটার রসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। এ দুটি উপাদান ডেঙ্গু জ্বর নিয়ন্ত্রণে উপকার করে।

হলুদ

রান্নাঘরের একটি উপাদান হলো হলুদ। যা চিকিৎসায় যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ডেঙ্গু জ্বর হলে এক গ্লাস দুধের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে পান করুন। হলুদ দুধ খাওয়ার একাধিক স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে।

ব্রোকলি

ব্রোকলি হলো ভিটামিন কে’র একটি ভালো উৎস। অন্যদিকে ভিটামিন কে রক্তের প্লাটিলেট বাড়াতে সহায়তা করে। যদি কোনো ব্যক্তি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন, তাহলে অবশ্যই তাকে ব্রোকলি খাওয়াতে হবে।

পালং শাক

পালং শাকে থাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ওমেগো-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করতে সহায়তা করে এই শাক। পালং শাক গ্রহণে ডেঙ্গু রোগীর প্লাটিলেট দ্রুত বাড়বে।

ডেঙ্গু হলে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি তৈলাক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করুন। একই সঙ্গে মসলাযুক্ত খাবারও এড়িয়ে চলতে হবে।

এছাড়া ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান করবেন না। এসব খাবার শরীরের কোনো উপকারেই আসে না বরং ক্লান্তি ও অসুস্থতা বাড়িয়ে দেয়।


রক্তদানের পর শরীরের যেসব উপকার হয়

রক্তদানের পর শরীরের যেসব উপকার হয়



রক্তদান মহৎ একটি উদ্যোগ। অন্যকে রক্ত দেওয়ার মাধ্যমে যেমন তার জীবন বাঁচানো যায়, ঠিক তেমনই রক্তদান করলে নিজের শরীরেরও উপকার হয়।

অনেকেই ভেবে থাকেন, রক্তদান করলে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যায় ভুগতে হবে। ধারণাটি ঠিক নয়। কারণ রক্তদানের অনেক উপকারিতা আছে। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ও নিঃস্বার্থ উপহার হলো রক্তদান।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বছরে ৮-৯ লাখ ব্যাগ রক্তের চাহিদা থাকলেও রক্ত সংগ্রহ হয় ৬-৬.৫ লাখ ব্যাগ। ঘাটতি থাকে তিন লাখ ব্যাগের বেশি।



এ ছাড়া সংগ্রহকৃত রক্তের মাত্র ৩০ শতাংশ আসে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের থেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক ব্যাগ রক্ত দিতে সময় লাগে মাত্র ১০-১২ মিনিট। এই অল্প সময়ে চাইলেই একজনের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।

করা রক্ত দিতে পারবেন? ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সের মধ্যে শারীরিকভাবে সুস্থ নারী ও পুরুষ রক্ত দিতে সক্ষম। এক্ষেত্রে পুরুষের ওজন থাকতে হবে অন্তত ৪৮ কেজি এবং নারীর অন্তত ৪৫ কেজি।

রক্তদাতাকে অবশ্যই ভাইরাসজনিত রোগ, শ্বাসযন্ত্রের রোগ এবং চর্মরোগ মুক্ত থাকতে হবে। সাধারণত ৯০ দিন পর পর, অর্থাৎ তিন মাস পর পর রক্ত দেওয়া যায়।



রক্ত দেওয়ার পর যা হয়

রক্ত দেওয়ার পর কিছুটা মাথা ঘোরাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় হাঁটাহাঁটি না করে অন্তত ১-২ ঘণ্টা বিশ্রাম নেওয়া উচিত। রক্তদাতা যদি ঘামতে থাকেন এবং অস্থির হন, তবে তাকে স্যালাইন খাওয়াতে হয়।

সাধারণত প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ মানুষ প্রতিবার ৪৫০ মিলিলিটার রক্ত দেওয়া হয়। রক্ত দেওয়ার পর লোহিত রক্তকণিকার মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে অন্তত এক থেকে দেড় মাস সময় লাগতে পারে। পাশাপাশি রক্ত বাড়ে এমন খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।


নিয়মিত রক্তদানের মাধ্যমে শরীর যেভাবে উকৃত হয়-

>> নিয়মিত রক্তদান করলে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।
>> বছরে তিনবার রক্ত দিলে শরীরে নতুন লোহিত কণিকা তৈরির হার বেড়ে যায়। এতে অস্থিমজ্জা সক্রিয় থাকে। দ্রুত রক্তস্বল্পতা পূরণ হয়।
>> রক্তে কোলেস্টরেলের মাত্রা কমে যায়। এর ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায়।


>> শরীরে হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, জন্ডিস, ম্যালেরিয়া, সিফিলিস, এইচআইভি বা এইডসের মতো বড় রোগ সম্পর্কে জানা যায়।
>> রক্তদাতার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।



Thursday, September 26, 2024

ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কে ১০টি তথ্য জেনে নিন

 ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কে ১০টি তথ্য জেনে নিন



ডেঙ্গুর জ্বর নিয়ে অনেক মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। কারণ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বা মৃত্যুর সংখ্যা একেবারে কম নয়।

কোন শরীরে কোন লক্ষণ দেখলে আপনি বুঝবেন যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন এবং সেক্ষেত্রে আপনার করণীয় কী হতে পারে?

১. ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো কী?

সাধারণভাবে ডেঙ্গুর লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। ১০১ ডিগ্রি থেকে ১০২ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকতে পারে। জ্বর একটানা থাকতে পারে, আবার ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে দেবার পর আবারো জ্বর আসতে পারে। এর সাথে শরীরে ব্যথা মাথাব্যথা, চেখের পেছনে ব্যথা এবং চামড়ায় লালচে দাগ (র‍্যাশ) হতে পারে। তবে এগুলো না থাকলেও ডেঙ্গু হতে পারে।

২. জ্বর হলেই কি চিন্তিত হবেন?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ বলছেন, এখন যেহেতু ডেঙ্গুর সময়, সেজন্য জ্বর হল অবহেলা করা উচিত নয়।

জ্বরে আক্রান্ত হলেই সাথে-সাথে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ।

তিনি বলছেন, ''ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তারা জ্বরকে অবহেলা করেছেন। জ্বরের সাথে যদি সর্দি- কাশি, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কিংবা অন্য কোন বিষয় জড়িত থাকে তাহলে সেটি ডেঙ্গু না হয়ে অন্যকিছু হতে পারে। তবে জ্বর হলেই সচেতন থাকতে হবে।''

৩. বিশ্রামে থাকতে হবে

সরকারের কমিউনিক্যাবল ডিজিজ কন্ট্রোল বা সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ বিভাগের অন্যতম পরিচালক ড. সানিয়া তাহমিনা বলেন, ''জ্বর হলে বিশ্রামে থাকতে হবে। তিনি পরামর্শ দিচ্ছেন, জ্বর নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করা উচিত নয়। একজন ব্যক্তি সাধারণত প্রতিদিন যেসব পরিশ্রমের কাজ করে, সেগুলো না করাই ভালো। পরিপূর্ণ বিশ্রাম প্রয়োজন।''

৪. কী খাবেন?

প্রচুর পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। যেমন - ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের জুস এবং খাবার স্যালাইন গ্রহণ করা যেতে পারে। এমন নয় যে প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে, পানি জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে।

৫. যেসব ঔষধ খাওয়া উচিত নয়

অধ্যাপক তাহমিনা বলেন, ''ডেঙ্গু জ্বর হলে প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে। স্বাভাবিক ওজনের একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন সর্বোচ্চ চারটি প্যারাসিটামল খেতে পারবে।''

চিকিৎসকরা বলছেন, প্যারাসিটামলের সর্বোচ্চ ডোজ হচ্ছে প্রতিদিন চার গ্রাম। কিন্তু কোন ব্যক্তির যদি লিভার, হার্ট এবং কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা থাকে, তাহলে প্যারাসিটামল সেবনের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে গায়ে ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ খাওয়া যাবে না। ডেঙ্গুর সময় অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ গ্রহণ করলে রক্তক্ষরণ হতে পারে।



৬. প্ল্যাটিলেট বা রক্তকণিকা নিয়ে চিন্তিত?

ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে প্ল্যাটিলেট বা রক্তকণিকা এখন আর মূল ফ্যাক্টর নয় বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক তাহমিনা।

তিনি বলেন, ''প্ল্যাটিলেট কাউন্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন হবার কোন প্রয়োজন নেই। বিষয়টি চিকিৎসকের উপর ছেড়ে দেয়াই ভালো।''

সাধারণত একজন মানুষের রক্তে প্ল্যাটিলেট কাউন্ট থাকে দেড়-লাখ থেকে সাড়ে চার-লাখ পর্যন্ত।

৭. ডেঙ্গু হলেই কি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়?

ডেঙ্গু জ্বরের তিনটি ভাগ রয়েছে।

এ ভাগগুলো হচ্ছে - 'এ', 'বি' এবং 'সি'।

প্রথম ক্যাটাগরির রোগীরা নরমাল থাকে। তাদের শুধু জ্বর থাকে। অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগী 'এ' ক্যাটাগরির।

তাদের হাসপাতালে ভর্তি হবার কোন প্রয়োজন নেই। 'বি' ক্যাটাগরির ডেঙ্গু রোগীদের সবই স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু শরীরে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন তার পেটে ব্যথা হতে পারে, বমি হতে পারে প্রচুর কিংবা সে কিছুই খেতে পারছে না।

অনেক সময় দেখা যায়, দুইদিন জ্বরের পরে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এক্ষেত্রে হাসপাতাল ভর্তি হওয়াই ভালো।

'সি' ক্যাটাগরির ডেঙ্গু জ্বর সবচেয়ে খারাপ। কিছু-কিছু ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ'র প্রয়োজন হতে পারে।



৮. ডেঙ্গুর জ্বরের সময়কাল

সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ থাকে। কারণ এ সময়টিতে এডিস মশার বিস্তার ঘটে।

কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরের সময়কাল আরো এগিয়ে এসেছে। এখন জুন মাস থেকেই ডেঙ্গু জ্বরের সময় শুরু হয়ে যাচ্ছে।

৯. এডিস মশা কখন কামড়ায়

ডেঙ্গু জ্বরের জন্য দায়ী এডিস মশা অন্ধকারে কামড়ায় না। সাধারণত সকালের দিকে এবং সন্ধ্যার কিছু আগে এডিস মশা তৎপর হয়ে উঠে। এডিস মশা কখনো অন্ধকারে কামড়ায় না।

১০. পানি জমিয়ে না রাখা

অধ্যাপক আবদুল্লাহ বলছেন, ''এডিস মশা 'ভদ্র মশা' হিসেবে পরিচিত। এসব মশা সুন্দর-সুন্দর ঘরবাড়িতে বাস করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এডিস মশা সাধারণত ডিম পাড়ে স্বচ্ছ পানিতে। কোথাও যাতে পানি তিন থেকে পাঁচদিনের বেশি জমা না থাকে।

এ পানি যে কোন জায়গায় জমতে পারে। বাড়ির ছাদে কিংবা বারান্দার ফুলের টবে, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন পয়েন্টে, রাস্তার পাশে পড়ে থাকা টায়ার কিংবা অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে।

কেন আপনার শিশু পড়তে চায় না, জানেন?

              কেন আপনার শিশু পড়তে চায় না, জানেন? মা–বাবারা প্রায়ই অভিযোগ ক‌রেন, ‘আমার বাচ্চাটা পড়‌তে চায় না।’ অন‌্য সবদি‌কে ম‌নো‌নি‌বেশ থা...